Blogger দ্বারা পরিচালিত.

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Technology

3/Technology/post-list

Popular Posts

Recent in Technology

Random Posts

3/random/post-list
A Diary of Neyamul

Subscribe Us

Recents in Beach

Popular Posts

একই ঘটনা কিন্তু কেমন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি

0 Comments

 একজন বিখ্যাত লেখক তার স্টাডি রুমে বসে ছিলেন। তিনি তার কলম তুলে নিয়ে লিখতে শুরু করলেন:

* এই বছর আমার একটি অপারেশন করা হয় এবং আমার পিত্তথলি কেটে ফেলে দিতে হয়। আর এই অপারেশনের কারণে আমাকে দীর্ঘদিন বিছানায় পড়ে থাকতে হয়।
* এই একই বছর, আমার বয়স ষাট স্পর্শ করে এবং আমার সবচেয়ে প্রিয় কাজটি আমায় ছেড়ে দিতে হয়। এই প্রকাশনা সংস্থায় গত ত্রিশ বছর যাবত আমি কাজ করেছি।
* এই একই বছর, আমাকে আমার বাবা হারানোর মত দুঃখের সম্মুখীন হতে হয়।
* এবং একই বছরই আমার ছেলে মেডিকেল পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়, কারণ সে সড়ক দূর্ঘটনায় আহত হয়, যার ফলে তাকে বেশ কিছুদিন হাসপাতালে কাটাতে হয়। এছাড়া আমাদের গাড়ির ক্ষতি তো আছেই।
সবশেষে তিনি লিখলেন, "হায়! এই বছরটা কতই না খারাপ কাটলো।"
এ সময় তার স্ত্রী রুমে প্রবেশ করে স্বামীকে ভগ্ন হৃদয় দেখতে পান। তিনি তার পিছনে দাঁড়িয়ে লেখাটি পড়েন এবং নীরবে রুম থেকে বেরিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর, তিনি হাতে লেখা অন্য একটি কাগজ তার স্বামীর লেখা কাগজের পাশে রাখেন।
লেখক কাগজটির দিকে মনোযোগ দিয়ে দেখতে পান তাতে লেখা আছে:
* এই বছর, অবশেষে আমি আমার পিত্তথলির ব্যথা থেকে মুক্তি লাভ করি, যা কয়েক বছর যাবত আমাকে ভোগাচ্ছিল।
* এই বছরই, আমি এখনও পর্যন্ত সুস্থ শরীরে ষাট বছরে পদার্পণ করি এবং আমার চাকুরি থেকে অবসর গ্রহণ করি। ফলে এখন আমি আরো মনোযোগ সহকারে এবং শান্তিতে ভালো কিছু লিখতে পারবো।
* এই একই বছর, আমার বাবা ৯৫ বছর বয়সে, অন্য কারো মুখাপেক্ষী না হয়ে এবং কোন ধরনের রোগব্যাধি ছাড়াই স্রষ্টার সান্নিধ্যে চলে গেছেন।
* আর এই একই বছর, স্রষ্টা যেন আমার ছেলেকে নতুন জীবন দান করেন। যদিও আমাদের গাড়ির ক্ষতি হয়েছে কিন্তু আমার ছেলে কোন ধরনের পঙ্গুত্ব বরণ করা ছাড়াই বেঁচে ফিরে এসেছে।
সবশেষে তার স্ত্রী লিখেছেন, "এই বছরটা আল্লাহর অশেষ রহমতে কত ভালোই না কাটলো!"
____________________________
দেখলেন! কত চমৎকার!
একই ঘটনা কিন্তু কেমন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি!
এভাবে আমরা যদি প্রত্যেকটি ঘটনাই "আরো অনেক কিছুই ঘটতে পারতো" এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখি, তবেই আমরা মন থেকে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করতে সক্ষম হবো।
আল্লাহ পবিত্র কুর'আনে বলেন, “আপনার পালনকর্তা মানুষের প্রতি অনুগ্রহশীল, কিন্তু তাদের অধিকাংশই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।” [আন-নামল- ৭৩]
- শাইখ যাহির মাহমুদ (অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে অনূদিত)
0 Comments

 আমরা জাহিলি যুগ দেখিনি; কিন্তু দেখেছি গ্রামগঞ্জের বিবাহ-অনুষ্ঠান। এর অধিকাংশগুলোতে জাহিলিয়াতের ফ্লেভার পূর্ণ মাত্রায় পাওয়া যায়। বিধর্মীদের পূজা-অনুষ্ঠানের মধ্যে আর এসব কথিত মুসলিম বিবাহ-অনুষ্ঠানের মধ্যে পার্থক্য খুব কমই নজরে পড়ে। এমনকি যারা ব্যক্তিগত জীবনে প্রাক্টিসিং মুসলিম, তাদের অনেকের বিয়ের অনুষ্ঠানও থাকে সম্পূর্ণ হিন্দুয়ানি সংস্কৃতিতে ভরপুর। শহরের বিয়েগুলোর অবস্থাও ভালো না। তবে দু-জায়গার জাহিলিয়াত দু-ধরনের। 

গায়ে হলুদ, পাত্রের আত্মীয় ও বন্ধুদের দ্বারা পাত্রী দর্শন, গানবাজনা, ফ্রি মিক্সিং, বরযাত্রী, দুলহার সঙ্গে দুলহানের আত্মীয়া ও বান্ধবীদের মাখামাখি, সাধ্যাতীত মোহরানা, মজা করার নামে ঘুষ ও চাঁদাবাজি, কথিত ওকিল বাপ, পাত্রীর অনুমতি আদায়ের নামে মনগড়া কাজকারবার, কাজীদের ধূর্তামি, বাসরঘরের বিভিন্ন অপসংস্কৃতি সবমিলিয়ে এর জাহিলিয়াতের তালিকা অতি দীর্ঘ। 

যে সংসারের সূচনাই হয় রবের নাফরমানি দিয়ে, সে সংসারে শান্তি ও বরকত আসবেই বা কীভাবে! যারা নিজেদের বিয়েতেও জাহিলিয়াতকে চ্যালেঞ্জ করার সৎসাহস রাখে না, তাদের বীর্য ও পৌরুষ নিয়ে প্রশ্ন জাগাও অস্বাভাবিক না।

ঘটনাটা পড়েই দেখুন, নিজের অজান্তে চোখ দিয়ে পানি চলে আসবে..... একটি_অনাকাংক্ষিত_ভুল_এবং_ক্ষমা

0 Comments

 ঘটনাটা পড়েই দেখুন, নিজের অজান্তে চোখ দিয়ে পানি চলে আসবে.....

একটি_অনাকাংক্ষিত_ভুল_এবং_ক্ষমা 

 --বাঝে অশ্লীল গল্প না পড়ে ইসলামিক শিক্ষণীয় গল্প পড়ায় অভ্যস্ত হোন কাজে দিবে।।    

একদিন মদীনার দুই ব্যক্তি একজন যুবককে টেনে-হিঁছড়ে, অর্ধপৃথিবীর শাসক খলীফা হযরত উমর (রা) এর দরবারে হাজির করল। এবং তারা বিচার দাখিল করল যে, "এই যুবক আমাদের পিতাকে হত্যা করেছে। আমরা এর ন্যায় বিচার চাই।" 

.

আমিরুল মু’মিনীন খলীফা হযরত উমর (রা) সেই যুবককে তার বিপক্ষে করা দাবী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। সেই যুবক বললেন, "তাদের দাবী সম্পুর্ণ সত্য।" এই বলে যুবকটি তাঁর অনাকাঙ্ক্ষিত ঘঠনাটি বর্ণনা করতে লাগলেন।

.

তিনি বললেন, "আমি ক্লান্ত হয়ে যাবার কারণে বিশ্রামের জন্য এক খেজুর গাছের ছায়ায় বসলাম। ক্লান্ত শরীরে অল্প সময়েই ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম। ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার একমাত্র পছন্দের বাহন উটটি পাশে নেই। খুঁজতে খুঁজতে কিছু দূর গিয়ে পেলাম, তবে তা ছিল মৃত। পাশেই ছিল ওদের বাবা। যে আমার উটকে তার বাগানে প্রবেশের অপরাধে পাথর মেরে হত্যা করেছে। এই কারণে আমি হঠাৎ করে রাগান্বিত হয়ে পড়ি এবং তাদের বাবার সাথে তর্কাতর্কি করতে করতে এক পর্যায়ে মাথায় পাথর দিয়ে আঘাত করে ফেলি, ফলে সে সেইখানেই মারা যায়। যা একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ঘটে গেছে। এর জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী।"

.

বাদী’রা জানালেন- "আমরা এর মৃত্যুদণ্ড চাই।" হযরত উমর (রা) সব শুনে বললেন, "উট হত্যার বদলে তুমি একটা উট নিলেই হতো, কিন্তু তুমি বৃদ্ধকে হত্যা করেছ। হত্যার বদলে হত্যা। এখন তোমাকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হবে। তোমার কোন শেষ ইচ্ছা থাকলে বলতে পারো।" নওজোয়ান বললো, "আমার কাছে কিছু ঋণ ও অন্যের রাখা কিছু আমানত আছে। আমাকে যদি কিছু দিন সময় দিতেন তবে আমি বাড়ি গিয়ে আমানত ও ঋণগুলি পরিশোধ করে আসতাম।" 

.

খলিফা হযরত উমর (রা) বললেন, "তোমাকে এভাবে একা ছেড়ে দিতে পারি না। যদি তোমার পক্ষ থেকে কাউকে জিম্মাদার রেখে যেতে পারো তবে তোমায় সাময়িক সময়ের জন্য মুক্তি দিতে পারি। "নওজোয়ান বললো, "এখানে আমার কেউ নেই। যে আমার জিম্মাদার হবে। এখন আমি কি করি।" যুবকটি তখন নিরুপায় হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।

.

এই সময় হঠাৎ মজলিসে উপস্থিত এক সাহাবী যার নাম হযরত আবু যর গিফারী (রা), দাঁড়িয়ে বললেন, "আমি হবো ঐ ব্যক্তির জামিনদার।" সাহাবী হযরত আবু যর গিফারীর (রা) এই উত্তরে সভায় উপস্থিত সবাই হতবাক। একেতো অপরিচিত ব্যক্তি তার উপর হত্যার দন্ড প্রাপ্ত আসামীর জামিনদার। খলিফা বললেন, "আগামি শুক্রবার জুম্মা পর্যন্ত নওজোয়ানকে মুক্তি দেয়া হলো। জুম্মার আগে নওজোয়ান মদীনায় না আসলে নওজোয়ানের বদলে আবু যরকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হবে।" মুক্তি পেয়ে নওজোয়ান ছুটলো মাইলের পর মাইল দূরে তার বাড়ির দিকে। আবু যর গিফারী (রা) চলে গেলেন নিজ বাড়িতে।

দেখতে দেখতে জুম্মাবার এসে গেল। নওজোয়ানের আসার কোনো খবর নেই। হযরত উমর (রা) রাষ্ট্রীয় পত্রবাহক পাঠিয়ে দিলেন আবু যর গিফারির (রা) কাছে। পত্রে লিখা আজ শুক্রবার বাদ জুমা সেই যুবক যদি না আসে আইন মোতাবেক আবু যর গিফারির মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হবে। আবু যর যেন সময় মত জুম্মার প্রস্তুতি নিয়ে মসজিদে নববীতে হাজির হন। খবর শুনে সারা মদীনায় থমথমে অবস্থা। একজন নিষ্পাপ সাহাবী আবু যর গিফারী আজ বিনা দোষে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত হবেন।

জুমার পর মদীনার সবাই মসজিদে নববীর সামনে হাজির। সবার চোখে পানি। কারণ দন্ডপ্রাপ্ত যুবক এখনো ফিরে আসেনি। জল্লাদ প্রস্তুত।

.

জীবনে কত জনের মৃত্যুদন্ড দিয়েছে তার হিসেব নেই। কিন্তু আজ কিছুতেই চোখের পানি আটকাতে পারছে না জল্লাদ। আবু যরের মত একজন সাহাবী সম্পূর্ণ বিনা দোষে আজ মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত হবেন, এটা মদীনার কেউ মেনে নিতে পারছেন না। এমনকি মৃত্যুদন্ডের আদেশ প্রদানকারী খলিফা উমর (রা) নিজেও চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। হৃদয় তাঁর ভারাক্রান্ত। তবু আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। কারো পরিবর্তনের হাত নেই। আবু যর (রা) তখনও নিশ্চিন্ত মনে হাঁসি মুখে দাঁড়িয়ে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত। জল্লাদ ধীর পায়ে আবু যর (রা) এর দিকে এগুচ্ছেন আর কাঁদছেন। আজ যেন জল্লাদের পা চলে না। পায়ে যেন কেউ পাথর বেঁধে রেখেছে।

.

এমন সময় এক সাহাবী উচ্চ স্বরে জল্লাদকে বলে উঠলেন, "হে জল্লাদ একটু থামো। মরুভুমির ধুলার ঝড় উঠিয়ে ঐ দেখ কে যেন আসতেছে। হতে পারে ঐটা নওজোয়ানের ঘোড়ার পদধুলি। একটু দেখে নাও, তারপর না হয় আবু যরের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করো।" ঘোড়াটি কাছে আসলে দেখা যায় সত্যিই এ সেই নওজোয়ান। 

.

নওজোয়ান দ্রুত খলিফার সামনে এসে বললো, "হুযুর বেয়াদবি মাফ করবেন। রাস্তায় যদি ঘোড়ার পায়ে ব্যথা না পেত,তবে যথা সময়েই আসতে পারতাম। বাড়িতে গিয়ে আমি একটুও দেরি করি নাই। বাড়ি পৌঁছে গচ্ছিত আমানত ও ঋণ পরিশোধ করি। তারপর বাবা, মা এবং নববধুর কাছে সব খুলে বলে চিরবিদায় নিয়ে মৃত্যুর প্রস্তুতি নিয়ে মদীনার উদ্দেশ্যে রওনা দেই। এখন আমার জামিনদার ভাইকে ছেড়ে দিন আর আমাকে মৃত্যুদন্ড দিয়ে পবিত্র করুন। কেননা কেয়ামতের দিন আমি খুনি হিসেবে আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে চাই না।" 

.

আশেপাশের সবাই একেবারেই নীরব। চারিদিকে একদম থমথমে অবস্থা। সবাই হতবাক, কি হতে চলেছে। যুবকের পুনরায় ফিরে আসাটা অবাক করে দিলো সবাইকে।

.

খলিফা হযরত উমর (রা) যুবককে বললেন, "তুমি জানো তোমাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে, তারপরেও কেন ফিরে এলে।" উত্তরে সেই যুবক বলল- "আমি ফিরে এসেছি, কেউ যাতে বলতে না পারে, এক মুসলমানের বিপদে আরেক মুসলামান সাহায্য করতে এগিয়ে এসে নিজেই বিপদে পড়ে গেছিলো।" 

.

এবার হযরত উমর (রা) হযরত আবু যর গিফারী (রা) কে জিজ্ঞেস করলেন, "আপনি কেন না চেনা সত্যেও এমন জামিনদার হলেন।" উত্তরে হযরত আবু যর গিফারী (রা) বললেন, "পরবর্তিতে কেউ যেন বলতে না পারে, এক মুসলমান বিপদে পড়েছিলো, অথচ কেউ তাকে সাহায্য করতে আসেনি।" 

.

এমন কথা শুনে, হঠাৎ বৃদ্ধের দুই সন্তানের মাঝে একজন বলে উঠল, "হে খলীফা আপনি তাকে মুক্ত করে দিন। আমরা তার উপর করা অভিযোগ তুলে নিলাম।" 

.

হযরত উমর (রা) বললেন, কেন? তাদের মাঝে একজন বলে উঠলো, "কেউ যেন বলতে না পারে, এক মুসলমান অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল করে নিজেই স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ার পরেও অন্য মুসলমান তাকে ক্ষমা করেনি।" 

[হায়াতুস সাহাবা-৮৪৪

 
Template by STR from Minima retouched by Nyahoo | ics - id | ADxMenu |